ছাত্রছাত্রীদের সৃষ্টিকলায় ‘বাইশে শ্রাবণ’ শ্রদ্ধার্ঘ্য

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

সকাল থেকে আকাশের মুখ ভার। মাঝেমধ্যে এক এক্কে এক, দুই এক্কে দুই করে ঝরে পড়ছে বৃষ্টি। চারিদিক থেকে গাছের পাতা ভেঁজা সোঁদা গন্ধ বয়ে আসছে। সেই সময় প্রাথমিক শিক্ষক ট্রেনিং কলেজের তিন তলার প্রার্থনা কক্ষে ছাত্রছাত্রীদের মুখ থেকে তো কখনও নৃত্যের আবহে রবীন্দ্র সংগীত ‘বর্ষামঙ্গল’ হয়ে ঝড়ে পড়ছে। 

বৃহস্পতিবার ছিল বাইশে শ্রাবণ। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নানাবিধ অনুষ্ঠান রচিত হয়েছে। আমতা থানার রসপুর গ্রামে অগ্রগতি প্রাথমিক টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট ঘন্টা দু’য়েকের বিভিন্ন অনুষ্ঠান রেখেছিল। শ্রাবণের বৃষ্টিভেজা দিনে রবীন্দ্র রচনাবলী মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনলো শতাধিক ছাত্রছাত্রী। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা নাচে-গানে ও কবিতায় সকলের মন জয় করে নিল।

ছাত্রছাত্রীদের কথায়, ”রবিঠাকুর  আমাদের কাছে শুধুমাত্র পঁচিশে বৈশাখ নয়। উনি তো বাইশে শ্রাবণও। বৃষ্টিভেজা মেঘলা দিনে ‘সঞ্চয়িতা’ হাতে নিয়ে দিনটা কিভাবে যে কেটে যায় বোঝা যায় না। আসলে আমাদের রন্ধে রন্ধে রবীঠাকুর। তাই তো লিখেছেন ‘এত ভালোবাসি বলে হয়েছে প্রত্যয়, মৃত্যুরে আমি ভালো বাসিব নিশ্চয়।’ আমাদের ক্লাসের ম্যাম কথার পর কথা সাজিয়ে তাতে গানের  পর গান মিলিয়ে লেখা হয়েছে স্ক্রিপ্ট। এ দিন সেটাই পরিবেশন করেছে একত্রে পনেরোজন ছাত্রছাত্রী। একিসঙ্গে রবিঠাকুরের বিভিন্ন গান নৃত্য করে কবিকে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়েছে। পাঠ করা হয়েছে রবিঠাকুরের কবিতা।”

হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল বসিয়ে সুরে ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাই নি’ গাইছে আর নৃত্যের তালে উপস্থাপন করছে ছাত্রী। এমন গান ও নৃত্যের সম্পর্কের মধুরতা দেখে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীরা সমবেত কণ্ঠে গেয়ে উঠেছে। যা বাইশে শ্রাবণ নামাঙ্কিত দিনকে সুরের মূর্ছনায় পৌঁছে দিয়েছে। এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তপন মন্ডল, অতনু মন্ডল, সৌম্যশীষ দাশ এবং তপন চক্রবর্তী সহ কলেজের একাধিক প্রাক্তনি ও বর্তমান শিক্ষকবৃন্দ।  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।