আন্দুল রোডের বেসরকারি স্কুলে ছাত্র মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদন: তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আজ সকালে উত্তেজনা ছড়াল আন্দুল রোডের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। স্কুলের গেট ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। অবরোধ করা হয় রাস্তাও। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এমনকি র‍্যাফও নামানো হয়।

জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার অর্থাৎ ২ আগস্ট। অন্যান্য দিনের মতোই সেদিনও স্কুলে এসেছিল তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র সোহম মাইতি (৯)। স্কুলে আসার কিছুক্ষণ পরেই সোহম অসুস্থ বোধ করায় স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়ে যায় স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল তার। মৃত ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের এই ঘটনা জানায়নি। স্কুল ছুটির সময় তারা ওই ছাত্রকে স্কুল থেকে বাড়ি আনতে গেলে জানানো হয় যে, হঠাৎই নাকি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সোহমকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। যদিও স্কুলের বক্তব্য, অভিভাবকদের ফোনে একাধিকবার ফোন করেও তারা পাননি।

এদিকে ওই হাসপাতালে ছাত্রের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হলে পরিবারের তরফে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার একটি হাসপাতালে। শনিবার সেখানে মৃত্যু হয় সোহমের। জানা গেছে, ছাত্রের মৃত্যুর কারণ হিসেবে লেখা হয় এনসেফালাইটিস। যদিও এই তত্ত্ব মানতে নারাজ মৃতের পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ কিছু ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করেছে। তাঁদের অভিযোগ, স্কুলে এক ছাত্র সোহমের ঘাড়ে পেন গুঁজে দেয়। তা থেকে রক্তপাত হয়ে সোহমের জামা ভিজে যায়। তা ধামাচাপা দিতেই ওই জামা লুকিয়ে ফেলে স্কুল। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজও নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মৃত ছাত্রের পরিবার। তাঁদের বক্তব্য, সুস্থ ছেলে কীভাবে স্কুলে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যেতে পারে? সময়মতো স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিষয়টি জানায়নি, তাই পরিবারের তরফে চিকিৎসার সুযোগও কম মিলেছে বলেই অভিযোগ মৃতের পরিজনদের। যদিও এসবই অস্বীকার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, নামী বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল হওয়ায় পঠনপাঠন এখানে ব্যয়সাপেক্ষ। অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলেছেন, সিসিটিভির হার্ডডিস্ক খারাপ হওয়া সত্ত্বেও কেন তা সময়মতো সারানো হয়নি?

আবার অন্যদিকে এও প্রশ্ন উঠছে সোহমকে দাহ করার পরে কেন তার পরিবার অভিযোগ দায়ের করলেন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে? আর কেনইবা ময়নাতদন্তের জন্য অপেক্ষা করলেন না তাঁরা? সেসবেরও অবশ্য সদুত্তর মেলেনি মৃতের পরিবারের তরফে।

ছবি- সংগৃহীত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।