শ্যামপুর ২নং ব্লকে পার্থেনিয়াম নিধনে প্রশাসনের ঔদাসীন্যতা দেখে এগিয়ে এলো স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা সহ বেশ কিছু পড়ুয়ারা   

কল্যাণ অধিকারী:-প্রশাসনের উপর ভরসা না রেখে পার্থেনিয়াম উচ্ছেদ অভিযানে নামল পড়ুয়ারা। স্কুলে যাবার রাস্তার দু’ধারে গজিয়ে ওঠা পার্থেনিয়াম উবড়ে দিয়ে পরিবেশকে সুস্থ করবার দায়িত্ব নিজেরাই হাতে তুলে নিয়েছে। স্কুল পড়ুয়াদের পার্থেনিয়াম উচ্ছেদ করতে দেখে পথচলতি মানুষ প্রশাসনের গা ঢিলে ভাবকে দায়ি করেছে। 

শ্যামপুর-২ ব্লকের নওদা নয়নচন্দ্র বিদ্যাপীঠ যাবার রাস্তার ধারে গজিয়ে উঠেছে পার্থেনিয়াম গাছ। লম্বায় হাত তিন-চার। ডগে ছোট ছোট সাদা ফুলও ধরেছে। অতি সন্তর্পণে এলাকা বিস্তার করছে। ক’দিন আগে স্কুলে ‘পার্থেনিয়াম’ নামক এই বিষাক্ত গাছের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করা স্কুল ছাত্রদের নিয়ে পার্থেনিয়াম উচ্ছেদ অভিযানে নামেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

বিদ্যালয়ের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ২০-২২ জন ছাত্রকে নিয়ে চারজন শিক্ষক-শিক্ষিকা এই উদ্যোগে সামিল হন। নয়নচন্দ্র বিদ্যাপীঠের ইংরাজি বিভাগের শিক্ষিকা সুচন্দ্রিমা সেনগুপ্ত জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসারে ছাত্রছাত্রীরা মুখে মাস্ক ও গ্লাভস পরে এই অভিযানে নামে। গাছের গোড়ায় নুন জল দিয়ে ‘পার্থেনিয়াম’ নিধনে সামিল হয়। এর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে ৫ কেজি নুন। শুধু নিধন করাই নয়, সেইসময়ে পথচলতি মানুষকে এই গাছ চিনিয়ে দিয়ে এর অপকারিতা সম্পর্কে সচেতন করেন শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অরুণাভ বাজানি জানান, স্থানীয় পঞ্চায়েতে পার্থেনিয়াম সম্পর্কে উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।আগামী দিনেও তাঁরা পার্থেনিয়াম নিধনে পথে নামবেন ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে উদ্যোগী হবেন।    

পরিবেশবিদ ডঃ সৌরভ দোয়ারী জানান, পার্থেনিয়ামের মূল থেকে আলিলো নামক একধরনের রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরিত হয় যা অন্য গাছকে জন্মাতে দেয়না।ফলে উক্ত স্থানের বাস্ততন্ত্র যেমন বিঘ্নিত হয় তেমনই এই উদ্ভিদের পরাগরেণু বাতাসের মধ্যে ভেসে বেড়িয়ে হাঁপানিসহ মানব ফুসফুসের একাধিক রোগের সৃষ্টি করে। এই উদ্ভিদের উৎপত্তিস্থল দক্ষিণ আমেরিকায় হলেও গম আমদানির মাধ্যমে এই উদ্ভিদের আগমন ঘটে ভারত,নেপাল,বাংলাদেশসহ এশিয়ার একাধিক দেশে।পার্থেনিয়াম চেনানো ও তার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার বিভিন্ন চেষ্টা হলেও তা যথেষ্ট নয়।

শ্যামপুর ২নং বিডিও জানান, পার্থেনিয়াম নিধন বিষয় প্রশাসনিক স্তরে আমাদের কাছে কোন নির্দেশ আসেনি। তবে মিশন নির্মল বাংলার অধিনে বিভিন্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার নির্মল রাখা মুখ্য উদ্দেশ্য পালন করা হচ্ছে। পার্থেনিয়াম নিধনের জন্য কোন মেশিন নেই। কোন ইন্সট্রাকশন বা সিস্টেম নেই। পার্থেনিয়ামের ক্ষতির বিষয় আমরা সবাই ওয়াকিবহাল। তবে সরকারি ভাবে এখনও কোনপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। স্কুল এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। স্কুলের এই পদক্ষেপ কে আমি সমর্থন করি। যাতে আগামী দিনে পদক্ষেপ নেওয়া হয় তারজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।   

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।