যাতায়াতের অসুবিধা করে বসেছে বাজার নাকাল বহু রেল যাত্রী

বাপ্পাদিত্য ঘোষাল:- রেল লাইন ঘেঁষে অবৈধ বাজার,যাতায়াতের অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন অসংখ্য নিত্যযাত্রীরা।
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-খড়্গপুর শাখার নলপুর স্টেশনের গা ঘেঁষে অবৈধ বাজারের বিস্তার গত কয়েক বছরের তুলনায় আরও দ্বিগুন বেড়েছে।নলপুর স্টেশনের ধারে প্রায় ৫০ মিটার অংশে বাজার বসতো।এখন আগের তুলনায় আরও ৫০ মিটার বেড়েছে।রেল লাইন এর পাশে এই বাজার ক্রেতা-বিক্রেতা দুই পক্ষের জন্যই বিপদজনক।
বুধবার সকালে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,নলপুর স্টেশন থেকে পূর্ব দিকে রেল লাইনের পাশে কাঁচা সব্জি,ফলমূল সহ হরেক রকম পণ্যের স্থায়ী ছাউনি রয়েছে।
হাওড়া খড়গপুর শাখায় প্রায় ১৫ মিনিট পর পর ট্রেন চলাচল করে। রেলপথের ধারে ঝুঁকি নিয়ে চলে বিক্রিবাট্টা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন বাজার রেল লাইন ঘেঁষা হওয়ায় প্রায় সময়ই ট্রেনে কাটা পরে মানুষের মৃত্যু হয়। এতকিছু হওয়া সত্ত্বেও রেলের তরফে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি এবং বাজারের দোকানগুলো প্লাস্টিক ও পলিথিন দিয়ে তৈরি,যে কোনো সময় লাগতে পারে আগুন। ফুট ওভার ব্রিজে ওঠার রাস্তার পরিসর ছোট হয়েছে এই রাস্তায় ফল,সবজি,মাছ বিক্রেতাদের দৌরাত্ম ও বাড়ছে দিন দিন। ট্রেন ধরার তাড়াহুড়োয় ছুটতে গিয়ে নিত্য যাত্রীরা বাধার সম্মুখীন হন রাস্তার উপর বাজার বিক্রি হওয়ায়।
কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন প্রতিনিয়ত এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করে। স্টেশন লাগোয়া বাজারে বিকিকিনির পসরা চলে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত। নিত্য যাত্রীরা প্রশ্ন তুলছেন এই বাজার রেল লাইনের কাছে হওয়ায় যদি কোনো বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে তখন কি হবে?
ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন,রেলের কিছু কর্মকর্তার প্রশয়ে অবৈধ বাজারের সীমানা আরও বেড়েছে। স্থানীয় থানা,রেলওয়ে পুলিশ অবৈধ দোকানিদের কখনো বাধা দেয় না। সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের তোলাবাজি তো রয়েছেই।
দুবেলা কুপন দিয়ে টাকা আদায় করে রাজনৈতিক নেতাদের চ্যালারা এমনই তথ্য উঠে আসছে বিভিন্ন মানুষের বক্তব্যে। এছাড়া আর.পি.এফ রাও সিভিকদের দিয়ে মাস কাবারি আদায় করে।
যার ফলে অবৈধ বাজার উচ্ছেদের দায়িত্ব যাদের হাতে,তারাই মাস কাবারি নিয়ে বসিয়েছে অবৈধ বাজার,এমনই অভিযোগ উঠে আসছে নিত্য যাতায়াতকারীদের কাছ থেকে। এছাড়াও রেলের জায়গায় অবৈধ ভাবে ঝুপড়ি বানিয়ে মদ,জুয়া, সাটটার ঠেক চলে পুলিসি মদতে। নিত্যযাত্রীদের দাবি,অবৈধভাবে গজিয়ে ওঠা বাজার উচ্ছেদ করে তাদের যাতায়াতের রাস্তার পরিসর বাড়ানো হোক।তাহলে একই জায়গায় ঘটে চলা দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাবে সাধারণ যাত্রীরা।
প্রায়শই একই জায়গায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে বহু যাত্রীর। তবুও রেলকর্তী পক্ষ উদাসীন কেন, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে নিত্য যাত্রীদের মনে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।