নজির গড়ে অঙ্গ দানে এগিয়ে আসলো অঞ্জনা পরিবার, খুশি চিকিৎসক মহল   

কল্যাণ অধিকারী:-প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ বুঝতে শুরু করেছে মৃত্যুর পর অঙ্গ প্রতিস্থাপনের গুরুত্ব। অন্তত হাওড়া উদয়নারায়ণপুর থানার রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জনা ভৌমিকের পরিবার এটাই প্রমাণ করে দিলেন। অঞ্জনার ব্রেন ডেথের পর তাঁর অঙ্গ একাধিক মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করে তাঁদের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবে পরিবারের সদস্যটি এমনটাই অভিমত সকলের।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরের বাড়ির রান্না করা খাবার খেয়েছিলেন উনপঞ্চাশ বছর বয়সী অঞ্জনা ভৌমিক। তার কিছু সময় পর থেকেই বমি শুরু হয়। সঙ্গে রক্ত বের হতে থাকে। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিছুটা সুস্থ থাকায় বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। পরের দিন আবারও রক্তবমি শুরু হওয়ায় শহরের বেসরকারি নারায়ণা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও চিকিৎসায় সায় দিচ্ছিলেন না। এরপর চিকিৎসকরা পরিবারকে জানান অঞ্জনা ভৌমিকের ব্রেন স্ট্রোকের কথা।

সূত্রের খবর, হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর থানার রাজাপুর জোকার বাসিন্দা অঞ্জনা ভৌমিক। স্বামী সন্তোষ ভৌমিক পেশায় হাতুড়ে চিকিৎসক। স্ত্রীর ব্রেন ডেথের কথা জানবার পর দেহের একাধিক অঙ্গ প্রতিস্থাপনে সায় দেওয়া হয়। যার মধ্যে রয়েছে, কিডনি, লিভার, হৃদযন্ত্র, ত্বক এবং কর্নিয়া। এসএসকেএম-এ প্রথমবার হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হয়। হৃদযন্ত্র পাচ্ছেন নদিয়ার তেহট্টের বাসিন্দা মৃন্ময় দাস। এছাড়া অন্য একজনের শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কর্নিয়া দান করা হয় মুকুন্দপুর শঙ্কর নেত্রালয়ে।
 
গত বুধবার সকালে আন্দুল রোডের হাসপাতাল থেকে মাত্র ১২ মিনিটে গ্রিন করিডর করে এসএসকেএম-এ অঙ্গ নিয়ে আসা হয়। এরপর শুরু হয় অঙ্গ প্রতিস্থাপন। অঞ্জনা ভৌমিকের দাদা শ্যামল দাস জানিয়েছেন, “বোনের অঙ্গ গুলি মরণাপন্ন কোনও গরিব মানুষ পেয়ে থাকেন তাহলে আমরা মনে করব তাঁর শরীরের মধ্যে দিয়েই বেঁচে আছে আমাদের বোন।” অন্যদিকে স্বামী সন্তোষ ভৌমিক জানিয়েছেন, ওঁর শরীরের অঙ্গ বেঁচে থাকবে বাকিদের জীবনে। আমরা সবাই মিলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই মেয়েও আমাদের সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানিয়েছে। এমন কাজে সকলের এগিয়ে আসা দরকার। 

অঙ্গ দানে এগিয়ে আসছে গ্রামীণ এলাকার মানুষজন এমন ঘটনায় খুশি চিকিৎসক মহল। তাঁদের কথায়, কলকাতায় অঙ্গ প্রতিস্থাপনে নজির রয়েছে। ব্রেন ডেথ হয়ে যাওয়া পরিবারের কাছে বিষয়টি বোঝানো হলে গ্রামের মানুষজনও সম্মত দিচ্ছে। এটা অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। মৃত ব্যক্তির মধ্য দিয়ে সুস্থ জীবন পাচ্ছে অন্যরা এটা সকলের ভেবে দেখা দরকার। একটা অঙ্গের জন্য একাধিক মানুষ বছরভর অপেক্ষা করে থাকে। তাঁর শরীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপিত হলে সুস্থ জীবন ফিরে পাবে। এরজন্য দরকার আরও বেশি করে প্রচার। তবেই মানুষের মধ্যে বাড়বে অঙ্গ দান করবার প্রবণতা।   

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।