“উই ওয়ান্ট জাস্টিস”

নিজস্ব প্রতিবেদন:-সাদা পোষাকের দেবদূতপরনে দুধসাদা এ্যাপ্রন,গলায় ষ্টেথো,মুখে হালকা হালকা সদ্য গজিয়ে ওঠা দাড়ি-গোঁপ,হাইপাওয়ার চশমার আড়ালে বুদ্ধিদীপ্ত দুটো চোখে লেগে থাকা কৈশোরের প্রাণোচ্ছলতা।কোন ছুটি,উৎসব কিংবা পরবের দিন মাঝরাতে ভাগ্য যদি আপনার প্রিয়জনকে নিয়ে আপনাকে কোন সরকারি হাসপাতালের এমারজেন্সির সামনে হাজির করে তাহলে সবচেয়ে আগে এমনই একঝাঁক তারূণ্যকে আপনার পাশে দেখতে পাবেন।ওদের নামের পাশে তখনও কোন লম্বাচওড়া ডিগ্রি বসেনি,শহরজুড়ে ডজনখানেক চেম্বার কিংবা নামী বেসরকারি হাসপাতালে শীততাপনিয়ন্ত্রিত চেম্বারের সামনে অগনিত রোগী অপেক্ষায় বসে নেই ।শুনশান হাসপাতালের চারচৌহদ্দিতে ওরাই রাতজেগে আপনার আমার মতো অসহায় দূর্ভাগাদের পাশে থাকে। শুধুমাত্র পেশাদারি তাগিদ নয়,বরং অজানাকে জানার আকন্ঠ প্রয়াস ।ওরা রোগীর হাতে বাঁধা মাদুলি না গলায় মাঝারের তাবিজ অথবা যিশুখৃষ্টের ক্রশ দেখে না বরং নাড়ি টিপে রোগের জড়কে আন্দাজ করার চেষ্টা করে।আপনি যতক্ষনে কাউন্টারে নাম নথিভূক্তের কাজ শেষ করছেন ততক্ষনে ওরা ফোনে এ্যাটেন্ডেন্ট ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করে ফেলে।এরপর পরবর্তী ১০-১২ ঘন্টা আপনি আপনার প্রিয়জনের মরনবাঁচন এমনই গুটিকতক শিক্ষানবিশের হাতে সঁপে বাকিরাতটা হাসপাতালেরই এককোনে বসে কাটিয়ে দেন।সেদিন সেই অভিশপ্ত রাতে হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে সাদাপোষাকের ঐ একঝাঁক দেবদূতের ডাকনাম হল “জুনিয়র ডাক্তার”।
এই ডাকনামটা ছাড়া এদের আর কোন পরিচয় নেই।ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে,অলিন্দে,কফিসপে হাসপাতাল চত্বরে সবসময় এদের দেখা পাওয়া যায়।
রোগী ভাল হয়ে গেলে কেউ এদের ধন্যবাদ জানায় না বরং পান থেকে চুন খসলে জোটে দূর্ব্যবহার,গালিগালাজ,এরপর রোগী মারা গেলে তো কথাই নেই,চড়,ঘুঁসি,লাথি,লাঠির বাড়ি,দুধসাদা এ্যাপ্রনটা হয় লালেলাল,যাকে আপনি ডাক্তার ভেবেছিলেন,সে তখন রোগী হয়ে যায় এদের প্রতিবাদ করার শর্ত বা সামর্থ কোনটাই নেই,কথায় কথায় এদের “এসমা”(ESMA) নয়তো হোষ্টেল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা,দুঃস্থ পরিবারের সন্তান,মা-বাবা বলে,”যেমন তেমন করে আর দুটো বছর কাটিয়ে দে বাবা।”তবু এরা প্রতিবাদ করে,স্বর্ণালী ভবিষ্যতকে বাজি রেখে রাষ্ট্রপ্রধানের সামনে গর্জে ওঠে,-“উই ওয়ান্ট জাস্টিস্ ।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।