মন্দার বাংলায় অক্ষয় তৃতীয়া🌿🍁|

কল্যাণ অধিকারী

এ দিন বাঙালি ঘরে শাঁখের আওয়াজে অক্ষয় তৃতীয়া এবং দোকানে হালখাতা। আগে থেকেই ঠাকুর মশাই অক্ষয় তৃতীয়ার ফর্দ ধরিয়ে দেয় আর কর্তাবাবু সিদুঁর, পঞ্চগুঁড়ি, পঞ্চগর্ব্য, তিল, হরিতকী, কাপড় সহ নৈবেদ্য হাজির করেন। গিন্নিমা সকাল-সকাল ফুল, দুর্ব্বা, তুলসি, বিল্বপত্র, ধূপ, ধূনা, প্রদীপ ইত্যাদি ইত্যাদি ঠাকুর মশাইয়ের কাছে প্রস্তুত করে পুজো সম্পূর্ণ করান। বাকিটা দক্ষিণা তাহলেই সম্পূর্ণ পুণ্যের ব্রত।

দোকান থেকে মিষ্টির প্যাকেট সঙ্গে একটি রক্ষাকালী, কিংবা তারা মা, অথবা শিব বা লক্ষ্মী-গণেশ-এর ক্যালেন্ডার সাইকেলের হ্যান্ডেলে লাগিয়ে বাড়ি ফেরা। বাংলা দিন-মাস-বছর সমস্তটা থাকে দেওয়া। খোশমেজাজে দেখে নেওয়া রথ কবে, বর্ষা বঙ্গে কবে ঢুকবে, বোনাসের দিন অর্থাৎ বিশ্বকর্মা পুজো, ক’দিনে দুর্গাপুজো সঙ্গে বাকি আরও পরিচিত দিনগুলো চশমার মোটা কাঁচ দিয়ে দেখে নেওয়া।

সময়টা কি এমনটাই আছে? নাকি অনেককিছুর সঙ্গে বদলে গেছে অক্ষয় তৃতীয়ার মতো একাধিক তিথি!

ভাগীরথীতে প্রতিদিন জোয়ার হচ্ছে। হাওড়া ব্রিজ দিয়ে লাখো মানুষ দু’বেলা পার করছে। বড় বাজারে দোকানের সংখ্যা সেটাও বেড়ে চলেছে। গ্রামেগঞ্জে ধানকল, আটাকল, মুড়িভাজা কল, মুদিখানা, মিষ্টির দোকান, কাপড়ের দোকান, ভ্যানে ডাব বিক্রি, নদীতে বালি তোলা সব চলছে কালের নিয়মে। তবুও সবটাই ভাটার গতিতে। দাদা গতবার হাজার কপি ক্যালেন্ডার বানিয়েছিলাম এবার সাতশো। কারবার আগের মতো কোথায়। দেখুন না দাদা একটু কম রেটে ক্যালেন্ডার বানিয়ে দিতে।

বেচারা ঠাকুরমশাই সে তো আর পুজো-আচ্চা ছেড়ে লোহার কাজ করতে পারবে না। অথবা মুদিখানায় তেল মাপতে পারবে না। তাকে তো ঘটে জল দিয়ে পুজো-আচ্চা করে দিন কাটাতে হবে। এ বছর গামছা দিলাম একটু মানিয়ে নিন। দক্ষিণা দুশো টাকা নিন। কিন্তু বাবা এইভাবে কমালে খাব কি? একটু বাড়িয়ে তিনশো করে দে বাপ আমার!

মন্ত্রপাঠপূর্বক ছাড়া পুজো সম্পূর্ণতা পায় না। নিরামিষ আচারে বাড়িতে সুখ ফিরে আসে। দোকানে প্রতিদিন মালা, ধূপ দিলে কারবার ফুলেফেপে উঠবে। সবটাই যদি নিয়ম মেনে হয় তবুও অক্ষয় তৃতীয়া কেন দমে যাচ্ছে। এ কিসের লক্ষ্মণ? মন্দাগ্রস্ত বাজার কবে চেগে উঠবে!

লোককথায় এই দিনে মহাভারত রচনা আরম্ভ হয়। এদিনই সত্য যুগ শেষ হয়ে ত্রেতাযুগের সূচনা হয়। এদিনই রাজা ভগীরথ গঙ্গা দেবীকে মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন। এদিনই কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন। এদিনই কুবেরের লক্ষ্মী লাভ হয়েছিল বলে এদিন বৈভব-লক্ষ্মীর পূজা করা হয়। এমন একটি দিনে কেন কাঁদবে ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ীরা! এর মূলে কি বিদেশি নীতি! নাকি আমরা বেশি আমেরিকা নির্ভর হয়ে পড়ছি। এক প্যাকেট নুন কিনতেও পৌঁছে যাচ্ছি মলে, জামা-কাপড়ের জন্য নিউ মার্কেট। কে দেবে কার উত্তর।

শুভ অক্ষয় তৃতীয়া।র কাছে প্রস্তুত করে পুজো সম্পূর্ণ করান। বাকিটা দক্ষিণা তাহলেই সম্পূর্ণ পুণ্যের ব্রত।

দোকান থেকে মিষ্টির প্যাকেট সঙ্গে একটি রক্ষাকালী, কিংবা তারা মা, অথবা শিব বা লক্ষ্মী-গণেশ-এর ক্যালেন্ডার সাইকেলের হ্যান্ডেলে লাগিয়ে বাড়ি ফেরা। বাংলা দিন-মাস-বছর সমস্তটা থাকে দেওয়া। খোশমেজাজে দেখে নেওয়া রথ কবে, বর্ষা বঙ্গে কবে ঢুকবে, বোনাসের দিন অর্থাৎ বিশ্বকর্মা পুজো, ক’দিনে দুর্গাপুজো সঙ্গে বাকি আরও পরিচিত দিনগুলো চশমার মোটা কাঁচ দিয়ে দেখে নেওয়া।

সময়টা কি এমনটাই আছে? নাকি অনেককিছুর সঙ্গে বদলে গেছে অক্ষয় তৃতীয়ার মতো একাধিক তিথি!

ভাগীরথীতে প্রতিদিন জোয়ার হচ্ছে। হাওড়া ব্রিজ দিয়ে লাখো মানুষ দু’বেলা পার করছে। বড় বাজারে দোকানের সংখ্যা সেটাও বেড়ে চলেছে। গ্রামেগঞ্জে ধানকল, আটাকল, মুড়িভাজা কল, মুদিখানা, মিষ্টির দোকান, কাপড়ের দোকান, ভ্যানে ডাব বিক্রি, নদীতে বালি তোলা সব চলছে কালের নিয়মে। তবুও সবটাই ভাটার গতিতে। দাদা গতবার হাজার কপি ক্যালেন্ডার বানিয়েছিলাম এবার সাতশো। কারবার আগের মতো কোথায়। দেখুন না দাদা একটু কম রেটে ক্যালেন্ডার বানিয়ে দিতে।

বেচারা ঠাকুরমশাই সে তো আর পুজো-আচ্চা ছেড়ে লোহার কাজ করতে পারবে না। অথবা মুদিখানায় তেল মাপতে পারবে না। তাকে তো ঘটে জল দিয়ে পুজো-আচ্চা করে দিন কাটাতে হবে। এ বছর গামছা দিলাম একটু মানিয়ে নিন। দক্ষিণা দুশো টাকা নিন। কিন্তু বাবা এইভাবে কমালে খাব কি? একটু বাড়িয়ে তিনশো করে দে বাপ আমার!

মন্ত্রপাঠপূর্বক ছাড়া পুজো সম্পূর্ণতা পায় না। নিরামিষ আচারে বাড়িতে সুখ ফিরে আসে। দোকানে প্রতিদিন মালা, ধূপ দিলে কারবার ফুলেফেপে উঠবে। সবটাই যদি নিয়ম মেনে হয় তবুও অক্ষয় তৃতীয়া কেন দমে যাচ্ছে। এ কিসের লক্ষ্মণ? মন্দাগ্রস্ত বাজার কবে চেগে উঠবে!

লোককথায় এই দিনে মহাভারত রচনা আরম্ভ হয়। এদিনই সত্য যুগ শেষ হয়ে ত্রেতাযুগের সূচনা হয়। এদিনই রাজা ভগীরথ গঙ্গা দেবীকে মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন। এদিনই কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন। এদিনই কুবেরের লক্ষ্মী লাভ হয়েছিল বলে এদিন বৈভব-লক্ষ্মীর পূজা করা হয়। এমন একটি দিনে কেন কাঁদবে ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ীরা! এর মূলে কি বিদেশি নীতি! নাকি আমরা বেশি আমেরিকা নির্ভর হয়ে পড়ছি। এক প্যাকেট নুন কিনতেও পৌঁছে যাচ্ছি মলে, জামা-কাপড়ের জন্য নিউ মার্কেট। কে দেবে কার উত্তর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।