জামিন মিললেও বিজেপি নেত্রীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

বাকস্বাধীনতার অধিকার তত ক্ষণই থাকে যত ক্ষণ না তা অন্য কাউকে আঘাত করে। দু’টো লাইনের বক্তব্যের শেষে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দিয়ে শীর্ষ আদালত মুখ্যমন্ত্রীর ছবি বিকৃত কান্ডে হাওড়ার বিজেপি নেত্রীর জামিন মঞ্জুর করে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বিকৃত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে গত শুক্রবার হাওড়া কমিশনারেটের পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় বিজেপি নেত্রী প্রিয়ঙ্কা শর্মা। হাওড়া জেলা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। ঘটনায় জেলা বিজেপি নেতৃত্ব নড়েচড়ে বসে। খবর পৌঁছায় দিল্লিতে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়।

প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার সাম্প্রতিক একটি ছবিতে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সুপারইম্পোজড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন হাওড়ার বিজেপি’র যুব মোর্চার নেত্রী প্রিয়ঙ্কা শর্মা। ঘটনার অভিযোগে গ্রেফতার হন নেত্রী। ঘটনাপ্রবাহ পৌঁছায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। যেহেতু উনি একজন জাতীয় রাজনৈতিক দলের নেত্রী এই পোস্ট সমাজে প্রভাব পড়তে পারে। যে কারণে জামিন মঞ্জুরের আগে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপতি— ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সঞ্জীব খন্না জানান ‘বাকস্বাধীনতার অধিকার তত ক্ষণই থাকে যত ক্ষণ না তা অন্য কাউকে আঘাত করে’।

মেয়ের জামিন মঞ্জুর হওয়ায় স্বভাবতই খুশি দাশনগরের শর্মা পরিবারে। জেল হেফাজতের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে যাবার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিল প্রিয়াঙ্কা শর্মার পরিবার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়াঙ্কার ভাই রাজীব শর্মা জানিয়েছিলেন, ‘আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সোমবার পিটিশন ফাইল করব’। সেইমত শীর্ষ আদালতে পিটিশন দাখিল করা হয়। দুই বিচারপতি জামিন মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত মুখ্যমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির ঘটনায় হাওড়ার তৃণমূল নেতা বিভাস হাজরা পুলিশে অভিযোগ করেন। পরে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৬৬ এ (আপত্তিকর মেসেজ) ও জামিন অযোগ্য ধারা ৬৭ এ এছাড়া ৫০০ (মানহানি) মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার জেরে প্রিয়াঙ্কার বাড়িতে আসেন বিজেপি নেতা তথা অসমের অর্থমন্ত্রী
হেমন্ত বিশ্বশর্মা। এছাড়া দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব প্রিয়াঙ্কার পরিবারকে সবরকমের সাহায্যের আশ্বাস দেয়।

ঘটনায় প্রিয়াঙ্কার মায়ের অভিযোগ ছিল শাসকের দিকে। তাঁর কথায় বিজেপি করার জন্যই মেয়ের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।